০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নন্দীগ্রামে সাবেক মেম্বার রফিকুল এর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৯৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বগুড়ার নন্দীগ্রামে কালিশ পুনাইল হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক ইউপি সদস্য ও সদ্য ঘোষিত জামায়াত কর্মী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৫ নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কালিশ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মো লিটন হোসেন এর সাথে। প্রতারণার শিকার হওয়া লিটন হোসেন জানান, করোনা কালীন সময়ে সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের সাথে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল সে সময় রফিকুল ইসলাম কালিশ-পুনাইল হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসা কমিটির অভিভাবক সদস্য ছিলো। এর একপর্যায়ে মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের কথা বলে আমাকে চাকরির প্রস্তাব দেয় এবং চাকরি করতে দশ লক্ষ টাকা লাগবে বলে জানায়। সেসময় অগ্রীম তিন লক্ষ এবং চাকরি হওয়ার পরে সাত লক্ষ টাকা দেওয়ার চুক্তিতে জমি বন্ধক ও গরু বিক্রি করে তাকে তিন লক্ষ টাকা প্রদান করি। রফিকুল ইসলাম টাকা নেওয়ার ১ বছর পার হলেও চাকরির কোন সুব্যবস্থা করতে পারেনি। পরবর্তীতে তাকে চাকরির কথা বললে সে বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে। পরে আমরা খোজ নিয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি আবারও বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন এবং আমরা জানতে পারি সে চাকরির কথা বলে প্রতারনার মাধ্যমে আরও লোকজনের কাছ থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তখন উপায় না পেয়ে নন্দীগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি থানা পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করেন এবং ঘটনার সত্যতা পায়। পরবর্তীতে থানা পুলিশের মাধ্যমে রফিকুল ইসলাম টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য কিছুদিন সময় নিয়ে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে একটি কর্জনামা করে দেয়। কর্জনামা করে দিলেও বছরের পর বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত সে একটি টাকা প্রদান করেনি। এখন টাকা চাইতে গেলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। লিটনের বাবা বেলাল হোসেন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন আমরা গরীব মানুষ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি সন্তানের ভালো জীবিকা নির্বাহের আশায় রফিকুল ইসলামের কথাই গরু বিক্রি ও জমি বন্ধক রেখে তাকে তিন লক্ষ টাকা প্রদান করি। ঘটনার প্রায় চার বছর পার হলেও সে চাকরি তো দেয়নি এবং আমাকে টাকাও ফেরত দেয়নি টাকা ফেরত চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে রফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে এলাকার সাধারণ জনগণ জানান, রফিকুল ইসলাম খুবই ধূর্ত প্রকিতির ইউপি সদস্য থাকা কালীন এলাকার সাধারণ মানুষদের থেকে বিভিন্ন ভাতা দেওয়ার কথা বলে অনেক অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এলাকার সবাই তাকে বাটপার নামেই জানে রফিকুলের বিচার হওয়া দরকার। এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ওসি ফইম উদ্দিন জানান, উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নন্দীগ্রামে সাবেক মেম্বার রফিকুল এর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

Update Time : ১০:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টারঃ

বগুড়ার নন্দীগ্রামে কালিশ পুনাইল হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক ইউপি সদস্য ও সদ্য ঘোষিত জামায়াত কর্মী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৫ নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কালিশ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মো লিটন হোসেন এর সাথে। প্রতারণার শিকার হওয়া লিটন হোসেন জানান, করোনা কালীন সময়ে সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের সাথে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল সে সময় রফিকুল ইসলাম কালিশ-পুনাইল হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসা কমিটির অভিভাবক সদস্য ছিলো। এর একপর্যায়ে মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের কথা বলে আমাকে চাকরির প্রস্তাব দেয় এবং চাকরি করতে দশ লক্ষ টাকা লাগবে বলে জানায়। সেসময় অগ্রীম তিন লক্ষ এবং চাকরি হওয়ার পরে সাত লক্ষ টাকা দেওয়ার চুক্তিতে জমি বন্ধক ও গরু বিক্রি করে তাকে তিন লক্ষ টাকা প্রদান করি। রফিকুল ইসলাম টাকা নেওয়ার ১ বছর পার হলেও চাকরির কোন সুব্যবস্থা করতে পারেনি। পরবর্তীতে তাকে চাকরির কথা বললে সে বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে। পরে আমরা খোজ নিয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি আবারও বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন এবং আমরা জানতে পারি সে চাকরির কথা বলে প্রতারনার মাধ্যমে আরও লোকজনের কাছ থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তখন উপায় না পেয়ে নন্দীগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি থানা পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করেন এবং ঘটনার সত্যতা পায়। পরবর্তীতে থানা পুলিশের মাধ্যমে রফিকুল ইসলাম টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য কিছুদিন সময় নিয়ে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে একটি কর্জনামা করে দেয়। কর্জনামা করে দিলেও বছরের পর বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত সে একটি টাকা প্রদান করেনি। এখন টাকা চাইতে গেলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। লিটনের বাবা বেলাল হোসেন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন আমরা গরীব মানুষ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি সন্তানের ভালো জীবিকা নির্বাহের আশায় রফিকুল ইসলামের কথাই গরু বিক্রি ও জমি বন্ধক রেখে তাকে তিন লক্ষ টাকা প্রদান করি। ঘটনার প্রায় চার বছর পার হলেও সে চাকরি তো দেয়নি এবং আমাকে টাকাও ফেরত দেয়নি টাকা ফেরত চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে রফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে এলাকার সাধারণ জনগণ জানান, রফিকুল ইসলাম খুবই ধূর্ত প্রকিতির ইউপি সদস্য থাকা কালীন এলাকার সাধারণ মানুষদের থেকে বিভিন্ন ভাতা দেওয়ার কথা বলে অনেক অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এলাকার সবাই তাকে বাটপার নামেই জানে রফিকুলের বিচার হওয়া দরকার। এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ওসি ফইম উদ্দিন জানান, উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই।